কলস পিঠা

উপকরণ :
পুরের জন্য :
  • গরুর মাংসের রান্না করা কিমা - ১ কাপ 
  • পেঁয়াজ কুঁচি- ১ কাপ
  • টমেটো কুঁচি- ১ টি টমেটো
  • লাল মরিচের গুঁড়া- ১/২ চা চামচ অথবা আপনার স্বাদ অনুযায়ী
  • লবন- ১/২  চা চামচ অথবা আপনার স্বাদ অনুযায়ী
  • তেল- ৪ টেবিল চামচ

রুটি তৈরির জন্য  ঃ 
  • দুধ- ১ কাপ
  • ময়দা- ১ কাপ
  • চালের গুঁড়া - ২ টেবিল চামচ
  • লবন- ১/২ চা চামচ
  • তেল/ ঘি - ১ টেবিল চামচ
  • পানি- ১/২ কাপ
  • তেল- ডুবো তেলে ভাজার জন্য 
পদ্ধতি ঃ
  • প্যানে ৪ টেবিল চামচ তেল গরম করুন। গরম তেলে পেঁয়াজ কুঁচি দিয়ে নরম না হওয়া পর্যন্ত ভাজুন। এবার টমেটো কুঁচি, মরিচের গুঁড়া এবং লবন দিন। টমেটো নরম হয়ে এলে রান্না করা কিমা দিয়ে মাঝারি আঁচে ৭-৮ মিনিট ভেজে নামিয়ে ফেলুন। 
  • একটি পাত্রে দুধের সাথে লবন দিয়ে মাঝারি আঁচে চুলায় দিন। দুধ ফুটে ওঠা শুরু করলে ময়দা দিয়ে ভাল করে নাড়ুন। ২-৩ মিনিট নেড়ে নামিয়ে ফেলুন। 
  • হাতে সহ্য করার মত ঠাণ্ডা করে নিন। এরপর হাতে তেল মেখে ময়ান করুন। ৬-৭ মিনিট ময়ান করে সুন্দর ডো তৈরি করুন। এরপর ডো থেকে ছোট ছোট বল তৈরি করুন।
  • পিঁড়িতে সামান্য ময়দা ছিটিয়ে বল থেকে পাতলা রুটি বেলে নিন।
  • এখন রুটির মাঝখানে ২ টেবিল চামচ পরিমান পুর রেখে চারিদিকে ভাজ করে হাত দিয়ে চাপ দিয়ে আটকে দিন যাতে পুর বের হয়ে আসতে না পারে। (নিচের ছবিটি দেখুন).
  • একই প্রক্রিয়ায় বাকি পিঠা গুলো তৈরি করুন। পাত্রে মাঝারি আঁচে তেল গরম করুন। তেল পর্যাপ্ত গরম হলে পিঠা গুলো ডুবো তেলে সুন্দর বাদামি করে ভেজে তুলুন। 

তেলের পিঠা


উপকরণঃ
  • চালের গুঁড়া - ১ কাপ 
  • আটা- ১/২ কাপ 
  • খেজুরের গুড় অথবা ব্রাউন সুগার - ৩/৪ কাপ অথবা আপনার স্বাদ অনুযায়ী  
  • লবন - ১/৪ চা চামচ
  • তেল- ডুবো তেলে ভাজার জন্য 
পদ্ধতিঃ
  • একটি বাটিতে চালের গুঁড়া এবং আটা নিয়ে ভাল করে মিশিয়ে নিন। এবার গুড় দিয়ে ভাল করে মাখুন। অল্প পরিমানে উষ্ণ গরম পানি দিয়ে কেক মিশ্রণ এর মত মিশ্রণ তৈরি করুন। (মিশ্রণ টি ঘন হবে ) মিশ্রণ টি ৩০ মিনিট এর মত ঢেকে রেখে দিন।
  • পাত্রে তেল গরম করুন। তেল পর্যাপ্ত গরম হয়েছে কিনা বুঝতে হলে এক ফোটা পিঠার মিশ্রণ তেলে ছাড়ুন। যদি সেটা কয়েক সেকেন্ড এর মধ্যে ভেসে ওঠে তাহলে বুঝতে হবে তেল পর্যাপ্ত গরম হয়েছে। .  
  • একটি বড় গোল চামচ নিয়ে মিশ্রণটি নেড়ে এক চামচ পরিমান মিশ্রণ তেলে ছাড়ুন। কয়েক সেকেন্ড এর মধ্যে পিঠাটি ফুলে উঠবে। ফুলে উঠলে পিঠাটি উল্টে দিয়ে আরও কিছুক্ষণ ভেজে তেল থেকে তুলে ফেলুন।
  • পেপার টাওএল এ রেখে অতিরিক্ত তেল শোষণ করিয়ে নিন। 
**গুড় যদি লিকুইড না হয় তাহলে গ্রেট করে অল্প গরম পানিতে ভাল করে গুলে নিন। 

পুর ভরা পেস্ট্রি


উপকরনঃ
  • পাফ পেস্ট্রি শিট - ১ টি
  • পেঁয়াজ কুঁচি - ১/২ কাপ 
  • কাঁচা মরিচ কুঁচি - ৩/৪ টি অথবা আপনার স্বাদ অনুযায়ী 
  • টমেটো কুঁচি - ছোট ১ টি 
  • হলুদের গুঁড়া - ১ চিমটি 
  • ডিম - ২ টি (ফেটান )
  • ছোট চিংড়ি - ১/২ কাপ 
  • ডিমের সাদা অংশ - ১ টি (২ টেবিল চামচ পানির সঙ্গে মিশিয়ে ভাল করে ফেটিয়ে নিন )
  • তেল - ৪-৬ টেবিল চামচ + ব্রাশ করার জন্য 
  • লবন - ৩/৪ চা চামচ অথবা আপনার স্বাদ অনুযায়ী 
পদ্ধতি:
  • পাফ পেস্ট্রি শিট থ' করার জন্য ১৫-২০ মিনিট স্বাভাবিক তাপমাত্রায় রেখে দিন।
  • প্যান এ  তেল গরম করুন। পেঁয়াজ কুঁচি দিয়ে নরম না হওয়া পর্যন্ত ভাজতে থাকুন। এবার চিংড়ি, কাঁচা মরিচ, টমেটো, লবন এবং হলুদের গুঁড়া দিয়ে কিছুক্ষণ নাড়ুন। টমেটো নরম হয়ে এলে ফেটান ডিম দিয়ে ২/৩ মিনিট নেড়ে নামিয়ে ফেলুন।
  • পেস্ট্রি শিট থ' হয়ে গেলে ভাজ খুলে এর উপর অল্প ময়দা ছিটিয়ে দিন। পিঁড়ির উপরেও কিছু ময়দা ছিটিয়ে সামান্য বেলে পাতলা করে নিন। 
  • শিটের মাঝ বরাবর পুর দিন। তারপর ছবির মত করে পাশ কেটে নিন। কাঁটা অংশ একের পর এক কোনাকুনি করে লাগিয়ে মাছের শেপ করুন। বেকিং ট্রের উপরে তেল ব্রাশ করুন।  পেস্ট্রিটি ট্রের উপরে রেখে ডিমের সাদা ফেটান অংশ উপরে ব্রাশ করে দিন। 
  • ৪০০ ডিগ্রী ফারেনহাইট তাপমাত্রায় ওভেন প্রিহিট করুন। বেকিং ট্রে টি ওভেন এ দিয়ে ১২-১৫ মিনিট অথবা বাদামি রঙ ধারন না করা পর্যন্ত বেক করুন।

আমের পুডিং

৪-৫ জনের পরিবেশন উপযোগী
উপকরনঃ
  • পাকা আম - ৩ টি বড় সাইজের ( আনুমানিক দেড় কাপ ঘন আমের রস)
  • কনড্যান্স মিল্ক- ১০০ মিলিগ্রাম অথবা আপনার স্বাদ অনুযায়ী 
  • হুইপড ক্রিম - ২০০ মিলিগ্রাম
  • জিলেটিন - ৪ টেবিল চামচ  
পদ্ধতি:
  • ১২ টেবিল চামচ ফুটন্ত গরম পানিতে জিলেটিন দিয়ে সম্পূর্ণ গলে না যাওয়া পর্যন্ত নাড়ুন। 
  • আম ধুয়ে ছোট করে কেটে নিন। ব্লেন্ডার এ দিয়ে পেস্ট করুন। এর মধ্যে বাকি উপকরণ এবং জিলেটিন দিয়ে পুনরায় ভাল করে ব্লেনড করুন।
  • বাটিতে ঢেলে ৩-৪ ঘণ্টা ফ্রিজে রেখে দিন। 
  • ঠাণ্ডা হলে ছোট আমের টুকরো দিয়ে সাজিয়ে পরিবেশন করুন। 

কাঁচা পেপের হালুয়া

উপকরণঃ 
  • কাঁচা পেপে - দেড় কেজি 
  • চিনি - ১ কাপ অথবা আপনার স্বাদ অনুযায়ী
  • গুঁড়া দুধ - ১ কাপ 
  • ঘি - ২ টেবিল চামচ 
  • এলাচ- ২ টি 
  • সবুজ খাবার রঙ - কয়েক ফোটা 
  • ভ্যানিলা এসেন্স - কয়েক ফোটা
  • কিসমিস- সাজানোর জন্য
  • এলমণ্ড কুঁচি সাজানোর জন্য 
পদ্ধতিঃ
  • পেঁপের খোসা ছাড়িয়ে ধুয়ে ছোট ছোট টুকরো করে ভাল করে সিদ্ধ করে নিন। 
  • ব্লেন্ডার এ দিয়ে পেস্ট করে নিন।
  • প্যানে ঘি গরম করে এলাচ দিয়ে নেড়ে পেপে পেস্ট দিয়ে নাড়ুন। এরপর চিনি দিয়ে ক্রমাগত নাড়তে থাকুন। ঘন হয়ে এলে গুঁড়া দুধ দিন এবং আবারো নাড়তে থাকুন। ফুড কালার দিয়ে হালুয়া ঘন হয়ে ঘি ভেসে ওঠা পর্যন্ত নাড়তে থাকুন। 
  • এরপর  ভ্যানিলা এসেন্স দিয়ে অল্প কিছুক্ষণ নেড়ে নামিয়ে ফেলুন।
  • কিসমিস এবং বাদাম কুঁচি দিয়ে সাজিয়ে পরিবেশন করুন।

জর্দা

উপকরনঃ 
  • বাসমতী চাল - ১ কাপ 
  • চিনি - ১/২ কাপ অথবা আপনার স্বাদ অনুযায়ী 
  • অরেঞ্জ ফুড কালার- ১/৪ চা চামচ( ২ টেবিল চামচ পানির সঙ্গে মেশান)
  • ঘি - ২ টেবিল চামচ 
  • কিসমিস- ১০/১২ টি 
  • এলাচ - ২ টুকরা
  • দারুচিনি -১ টুকরা 
  • লবঙ্গ - ২ টুকরা 
  • তেজপাতা - ২ টি 
  • এলমণ্ড কুঁচি - ২ টেবিল চামচ
  • পেস্তা বাদাম কুঁচি - ১ টেবিল চামচ
  • কালজাম - ২ টি টুকরা করা ( না হলেও চলবে) 
পদ্ধতি:
  • ৪-৫ কাপ ফুটন্ত পানিতে ধোয়া চাল দিয়ে রান্না করুন। চুলা থেকে নামানোর আগে ফুড কালার দিয়ে দিন। 
  • ঝাঁজরিতে ভাত ঢেলে ঠাণ্ডা পানি ঢেলে দিন যাতে ভাতগুলো ঝরঝরে হয়।
  • পাত্রে ঘি গরম করুন। এলাচ, দারুচিনি, কিসমিস, লবঙ্গ, তেজপাতা এবং ১ টেবিল চামচ এলমণ্ড কুঁচি দিয়ে অল্প কিছুক্ষণ নাড়ুন। এর মধ্যে ভাত ঢেলে নাড়ুন। এবার চিনি দিয়ে ভাল করে নেড়ে ঢেকে দিন। প্রয়োজন মনে করলে অল্প ফুড কালার দিতে পারেন।
  • অল্প আঁচে আনুমানিক ১৫ মিনিট রান্না করুন। মাঝে মাঝে নেড়ে দিন। এখন ঢাকনা খুলে কিছুক্ষণ চুলায় রাখুন যাতে আঠাল ভাব চলে যায়।
  • এলমণ্ড কুঁচি, পেস্তা বাদাম কুঁচি এবং  কালজামের টুকরা দিয়ে সাজিয়ে পরিবেশন করুন।

ভাত সব্জির বল

৩-৪ জনের পরিবেশন উপযোগী 

ঊপকরনঃ
  • রান্না করা ভাত- ১ কাপ (৬-৮ ঘণ্টা আগের রান্না করা ভাত হলে ভাল হয়)
  • সবজি মিক্স - ১ কাপ (গাজর, বরবটি, মটরশুটি,কর্ণ অথবা আপনার পছন্দ অনুযায়ী সবজি) 
  • ডিম - ১ টি ( ফেটান )
  • ময়দা - ২ টেবিল চামচ 
  • কাঁচা মরিচ কুঁচি - ২/৩ টি 
  • হলুদের গুঁড়া - ১/৪ চা চামচ 
  • ধনিয়া পাতা কুঁচি- ২ টেবিল চামচ 
  • লবন - ৩/৪ চা চামচ অথবা আপনার স্বাদ মত 
  • তেল - ডুবো তেলে ভাজার জন্য 
পদ্ধতি:
  • একটি পাত্রে তেল বাদে সব উপকরণ গুলো নিন। হাত দিয়ে ভাল করে মাখুন। 
  • কড়াইয়ে তেল গরম করুন। ১ টেবিল চামচ পরিমান মিশ্রণ হাতে নিয়ে গোলাকার বল তৈরি করুন এবং গরম তেলে ছাড়ুন। 
  • বল গুলি সুন্দর বাদামি রঙ ধারন করা পর্যন্ত ভাজুন। 

চিংড়ি ভর্তা

উপকরণ :

  • মাজারি আকারের চিংড়ি - ১৫-২০ টা 
  • পেয়াঁজ কুচি- ৩ টেবিল চামচ 
  • কাঁচা মরিচ কুচি - ২-৩টা  বা স্বাদ অনুযায়ী 
  • হলুদের গুঁড়া - ১/৪ চা চামচ
  • লাল মরিচের গুঁড়া - ১/৪ চা চামচ
  • সরিষার তেল - ২ টেবিল চামচ 
  • লবন-১/২ চা চামচ বা স্বাদ অনুযায়ী
  • ধনিয়া পাতা কুচি- ১ টেবিল চামচ 

পদ্ধতি :

  • চিংড়ির বেছে নিয়ে ভালভাবে ধুয়ে নিন এবং পানি ঝরিয়ে ফেলুন। তারপর চিংড়ির সাথে লবন, হলুদের গুঁড়া, মরিচের গুঁড়া মাখিয়ে একপাশে রাখুন।
  • মাঝারি আঁচে প্যানে তেল গরম করে তাতে পেয়াঁজ কুচি, কাঁচা মরিচ কুচি দিয়ে ভাজুন। পেয়াঁজ নরম হয়ে আসলে একটি পাত্রে উঠিয়ে নিন। তারপর চিংড়িগুলো প্যানে দিয়ে মাঝারি আঁচে ৩-৪ মিনিট ভাজুন।
  • চিংড়ি ভাজা হয়ে গেলে সব উপকরণ একসাথে পাটায় দিয়ে বেটে নিন (খুব মিহি করে বাটার প্রয়োজন নেই।)। আপনি চাইলে চপারেও চপ করতে পারেন।
  •  চিংড়ি ভর্তা গরম সাদা ভাত বা খিচুড়ির সাথে পরিবেশন করুন।

থাই সুপ

উপকরণ:
  • মুরগির স্টক - ৬ কাপ
  • লেবু পাতা - ৩ টা
  • কাচামরিচ - ৩-৪ টা 
  • মাশরুম - ১/২ কাপ 
  • চিংড়ি - ১০-১২ টা  অথবা মুরগির বুকের মাংস - ১/২ কাপ
  • ডিমের লালি - ৩ টা
  • ভুট্টা গুড়া - ৩ টেবিল চামচ
  • চিনি - ৫ চা চামচ
  • ভিনেগার - ৩ টেবিল চামচ
  • কেচাপ - ৩ টেবিল চামচ
  • চিলি সস/চিলি গারলিক সস - ২ টেবিল চামচ
  • লবন - ১ চা চামচ
পদ্ধতি:
  • মুরগির স্টক একটা সস প্যান-এ নিন এবং ফুটে উঠা পর্যন্ত অপেক্ষা করুন। এখন লেবু পাতা, মাশরুম, কাচামরিচ ও মুরগির বুকের মাংস (যদি আপনার উপকরণে থাকে ) প্যানএ  যোগ করুন এবং নিচু তাপমাত্রায় সিদ্ধ করুন।
  • এই সময়ের মধ্যে ডিমের লালিগুলু ফেটিয়ে নিন। তারপরত এতে ভুট্টা যোগ করে ভালোভাবে মিশিয়ে নিন।
  • এখন স্টকে চিনি, ভিনেগার, কেচাপ, সস আর লবন যোগ করুন এবং ভালোভাবে নাড়ুন।
  • এরপর স্টকের ৫-৬ টেবিল চামচ নিয়ে ডিমের মিশ্রনে যোগ করুন এবং ভালোভাবে মিশিয়ে নিন। (এটা  একটা গুরুত্বপূর্ণ ধাপ কারণ এতে করে ডিমের তাপমাত্রা খাপ খাবে, অন্যথায় ডিমের মিশ্রন স্টকে যোগ করলে জমাট বেধে যেতে পারে।)
  • এখন এক হাতে সুপ নাড়তে থাকুন আর অন্য হাত দিয়ে সাবধনে ডিমের মিশ্রন সুপে  যোগ করুন। সুপ ক্রমাগত নাড়তে থাকুন যাতে করে মিশ্রন ভালো হয়। 
  • এরপর চিংড়ি যোগ করে সুপ সিদ্ধ করুন এবং চুলা বন্ধ করে দিন।
  • আপনার সুপ এখন গরম-গরম পরিবেশন করুন।  
ধন্যবাদ :  
ইশিতা রহমান 
(কলাম্বিয়া, সাউথ কেরোলাইনা)

    - Copyright © টক ঝাল মিষ্টি - Powered by Blogger - Thanks to Johanes Djogan -